প্রশ্নঃ কার নিকট এবং কত সময়ের মধ্যে সার্টিফিকেট দেনাদার তার সম্পূর্ণ বা আংশিক দাবী অস্বীকার করে আপত্তি উত্থাপন করতে পারে?
ভূমিকাঃ সার্টিফিকেট জারি করার মাধ্যমে সরকারি অনাদায়ী দাবী আদায় করা হয়। অর্থাৎ কোন দেনাদার তার দেনা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে বা দেনা পরিশোধ না করলে সরকার তার বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট ইস্যু করে তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অনাদায়ী পাওনা আদায় করে।
কার নিকট এবং কত সময়ের মধ্যে সার্টিফিকেট দেনাদার তার সম্পূর্ণ বা আংশিক দাবী অস্বীকার করে আপত্তি উত্থাপন করতে পারেঃ সরকারি দাবী আদায় আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী সার্টিফিকেট দেনাদারের সম্পূর্ণ বা আংশিক দাবী অস্বীকার করে আপত্তি উত্থাপনের বিধান নিম্নে উল্লেখ করা হলো-
(i) যার নিকট দাবী উত্থাপন করতে হবে : যে সার্টিফিকেট অফিসার সার্টিফিকেটে স্বাক্ষর করেছেন তার নিকট দাবী উত্থাপন করতে হবে।
(ii) আপত্তি উত্থাপনের নিয়ম : সম্পূর্ণ দাবী অস্বীকার করে আপত্তি উত্থাপন করা যায় অথবা আংশিক দাবী উত্থাপন করে আপত্তি উত্থাপন করা যায়।
(iii) আপত্তি উত্থাপনের মেয়াদ : এই আইনের ৭ ধারার নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আপত্তি উত্থাপন করতে হবে। ৭ ধারার নোটিশ জারি না হলে অন্য কোন পরোয়ানা জারির ৩০ দিনের মধ্যে আপত্তি উত্থাপন করতে হবে।
আপত্তি নিষ্পত্তির বিধানঃ সরকারি দাবী আদায় আইনের ১০ ধারায় বলা হয়েছে-
crossorigin="anonymous">
style="display:block; text-align:center;"
data-ad-layout="in-article"
data-ad-format="fluid"
data-ad-client="ca-pub-3850092454288730"
data-ad-slot="2569077421">
(i) এই আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী সার্টিফিকেট দেনাদার আপত্তি উত্থাপন করলে সার্টিফিকেট অফিসার উক্ত আপত্তি শুনানির পর ঠিক করবেন কার কত টাকা পাওনা আছে এবং সেই অনুযায়ী সার্টিফিকেট সংশোধন করবেন।
(ii) যদি কোন টাকা পাওনা না থাকে তাহলে সার্টিফিকেট অফিসার উক্ত সার্টিফিকেট নাকচ বা খারিজের আদেশ দিবেন।
(iii) কালেক্টর ব্যতীত অন্য কোন অফিসার যদি মনে করেন যে, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে দেনাদারের অধিকার বিষয়ক প্রশ্ন জড়িত আছে তাহলে তিনি আবেদনটি কালেক্টরের নিকট প্রেরণ করবেন।
(iv) কালেক্টর যদি মনে করেন সত্যিকার অর্থে উক্ত প্রশ্ন জড়িত আছে তাহলে তিনি উক্ত সার্টিফিকেট খারিজের আদেশ দিবেন।
উপসংহারঃ সার্টিফিকেট জারির মাধ্যমে মূলতঃ দেনাদারের নিকট থেকে সরকারি অনাদায়ী পাওনা আদায় করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এজন্য তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলাম করে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। অবশ্য এই বিক্রির জন্য অন্য ব্যক্তির ক্ষতি হলে তিনি দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন।


Post a Comment